Summary
লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব এবং তাদের সহযোগিতা করার গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবন্ধীরা সমাজের অংশ এবং তাদের সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। লেখায় একটি উদাহরণ হিসেবে রতন ও তার বন্ধুরা মিলন নামক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাত্রকে স্কুলে সহজে নিয়ে যাওয়ার জন্য র্যাম্প তৈরির উদ্যোগ নেয়।
এছাড়া, পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সদস্যদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। পরিবারের অন্তরঙ্গ বিষয়গুলি বাইরের লোকের কাছে না জানানোর জন্য সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এসব হলে পরিবারের সম্মান নষ্ট হতে পারে। এই বিষয়ে একটি গল্প পাওয়া যায়, যেখানে প্রমির পরিবারের মতবিরোধ ব্যতিক্রমীভাবে সমাজে প্রকাশ পায় এবং এর ফলে প্রমির মা লজ্জিত হন।
অবশেষে, লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিবারের সদস্যদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করলে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটতে পারে এবং পরিবারের শান্তি বজায় রাখতে সকলের দায়িত্ব রয়েছে।
আমরা আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ দেখি যাদের হাত-পা নাই, চোখে দেখে না, কানে শোনে না, কথা বলতে পারে না, দেহের গঠন স্বাভাবিক নয়, বুদ্ধি কম। তাদের অনেক কষ্ট। তবে তাদের এই অবস্থার জন্য কিন্তু তারা দায়ী নয়। সবাই চায় সুন্দরভাবে বাঁচতে। এই ধরনের প্রতিবন্ধীদের প্রতি তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।
তোমাদের সুন্দর আচরণই প্রতিবন্ধীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিবে। তাই তারা যাতে অবহেলিত না হয়, যাতে সমাজের একজন হতে পারে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে, পড়াশোনা শিখতে পারে। সেজন্য আমাদের সবার এদের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

রতনদের স্কুলে প্রতিবন্ধী একজন ছাত্র রয়েছে। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। নাম মিলন, সে হুইল চেয়ারে করে স্কুলে আসে। রতন ও তার সহপাঠীরা হুইল চেয়ার ঠেলে অনেক কষ্ট করে তাকে বারান্দায় তুলে ক্লাসে নিয়ে যায়। রতন চিন্তা করল, একটা র্যাম্প থাকলে তাদের এত কষ্ট হতো না। বিষয়টি নিয়ে সে শ্রেণি-শিক্ষকের সাথে আলাপ করে এবং তারা কয়েক বন্ধু মিলে মাটি দিয়ে ঢাল তৈরি করে। পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার উপরে ইট বিছিয়ে সিমেন্ট করে র্যাম্প তৈরি করে দেয়। ফলে মিলনকে তার সহপাঠীরা সহজেই হুইল চেয়ার ঠেলে ক্লাসে নিয়ে যেতে পারে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতাই মিলনকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। সমাজে অনেক দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তোমরা সব সময় তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে, খেলাধুলা করবে, সঙ্গ দিবে, রাস্তা ঘাট পারাপারের সময় সাহায্য করবে। তাদের সাথে এমন আচরণ করবে যাতে তারা নিজেদের অসহায় মনে না করে।
| কাজ-১ একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর প্রতি তোমার আচরণ কেমন হবে? |
পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা- তোমরা সবাই মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে পরিবারে বাস কর। অনেকের পরিবারে আত্মীয়-স্বজনও থাকে। পরিবারে তোমাদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও স্নেহ, ভালোবাসার দৃঢ় বন্ধন থাকে। তারপরেও পরিবারে একত্রে বাস করতে গেলে সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য, মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তোমাদের উচিত এই বিষয়গুলো গোপন রাখা। কারণ বাইরে প্রকাশ পেলে পরিবারের মান, মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট হতে পারে। এছাড়া অর্থ সংক্রান্ত ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে যদি তোমরা কিছু জেনে যাও, তাহলে সেটা নিজের মধ্যেই গোপন রাখবে। এই বিষয়গুলো বাইরের মানুষ জেনে গেলে পরিবারের নিরাপত্তা নষ্ট হয়, বিপদও ঘটার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং যে বিষয়গুলো পরিবারের বাইরের কেউ জানলে পরিবারের মান, মর্যাদা, সম্মান নষ্ট হতে পারে বা পরিবারে বিপদ আসতে পারে, সেগুলোই পরিবারের গোপন বিষয়। তোমরা একটি গল্প শুনলেই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
প্রমির মা-বাবার মধ্যে একদিন মতবিরোধ হয়। প্রমি সে কথা প্রতিবেশী বান্ধবীকে বলে। বান্ধবী তার মায়ের সাথে গল্প করতে গিয়ে প্রমির মা-বাবার বিষয়টি বলে ফেলে। কয়েকদিন পর প্রমির মায়ের সাথে বান্ধবীর মায়ের দেখা হয়। বান্ধবীর মা মতবিরোধের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করে।
এতে প্রমির মা বেশ লজ্জাবোধ করেন। এই ঘটনা থেকেই তোমরা বুঝতে পারছ পরিবারের এমন কিছু বিষয় আছে, যা বাইরে আলোচনা করা উচিত নয়। তাই পরিবারের একান্ত বিষয়গুলো নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই থাকা আবশ্যক। তবে তোমরা অনেক সময় বন্ধুদের সাথে নিজ নিজ পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ করো। সেই ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবে বন্ধুর কাছে যেন তোমার পরিবারের সদস্যদের মান মর্যাদা কমে না যায়। তবে পরিবারের একান্ত গোপন যে বিষয়গুলো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি ঘটায় বা ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে বলে তোমার মনে হয়, সেটা তুমি মা-বাবা কিংবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ বা নির্ভরযোগ্য সদস্যের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে পার। কারণ পরিবারের যে ঘটনাগুলো সম্পর্কের অবনতি ঘটায়, সেটা খোলামেলা অলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো যায় এবং পরিবারের শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়। পরিবারের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষায় ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তোমারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিশাতের সহপাঠী কামাল শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে স্কুলে একা যেতে পারে না। প্রতিবেশী হওয়ায় নিশাত প্রতিদিন কামালকে স্কুলে নিয়ে যায় এবং পড়াশোনায় সাহায্য করে।
Read more